YouTube বন্ধ হয়ে গেলে...

বেশ কিছু দিন যাবৎ বাংলাদেশে ইউটিউব বন্ধ ছিল। কিন্তু তাই বলে আমাদের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় নি। নিজেদের প্রয়োজনের স্বার্থে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে উপায় বের করে নিয়েছি।

তুমি নেই তাই

পরমিতা.. হয়তো বা আজ রাতে.. হয়তো বা তোমায় একটা চিঠি লিখতে পারি। তোমার অবর্তমানে আমার অনুভূতিগুলো সাজাবো তাতে।।

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৬

ক্লেশ

http://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/ikhtamin/04-2015/ikhtamin_115418087552b69b5707ad8.74076390_xlarge.jpg

রোমেন একটা জরুরি ফোন করবে এমন সময় তার মুঠোফোনটা বেজে উঠলো।
- হ্যালো, মা! কেমন আছেন?
- এইতো আছি। ভালা। তুঁই কেমন আছো?
- আমি ভালো আছি।
- দুপুরে খাইছো নি?
- হ্যাঁ খাইছি। আপনি খাইছেন?
- হ। আর হুনো... লামিসার কোনও খবর জানো নি?
- হ্যাঁ... এক ঘন্টা আগেও তো কথা হইছে, বললো ভালোই আছে।
- আর কিছু কয় নো?
- বলছে। গতকাল নাকি তাহমিনার কাছে অনেক বার কল দিছে। কেউ রিসিভ করে নাই। পরে ব্যাকও করে নাই কেউ। আজকে ফোন করে দেখে কল ওয়েটিং। কেমন মানুষ। আমি বাড়িতে গেলে ওদের বাড়ি বেড়াতে যাবার জন্য শতবার ফোন করে, অথচ এতোদিন হয়ে গেলো আমাদের কাছে ফোন করাতো দূরের কথা, কল দিলেও ধরে না। ওকে। আমরা আর কল করবো না। লামিসারেও বলে দিছি- আর যেনো কল না করে ওর কাছে।

পোড়া মাটি


মা.. ওমা.. উঠো। ভাত দু’টা খেয়ে নেও। আমি পানি নিয়া আসি” বলে পুষ্পা কলসি হাতে কলপাড়ের দিকে হেঁটে গেলো। আজ চারদিন পর জ্বরাক্রান্ত কমলা দেবী ধীরে ধীরে তিক্ত খাবার খেতে শুরু করলো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সদানন্দ বাবু কিছু ট্যাবলেট এনে দিয়েছিলো। তা-ও প্রায় শেষের দিকে। জ্বর কিছুটা কমলেও শরীর খুব শীর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলো তার চোখের সামনে ভাসছে। নিজের অজান্তেই কমলা দেবী'র মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো- এটাই কি ছিলো আমার কপালে? একই সাথে তার শরীর কেঁপে কেঁপে ওঠে। যেন ভয় পেয়ে শিউরে উঠছে।

জানোয়ার

বাতাসের শোঁ-শোঁ গর্জনের মাঝেও অন্য কিছুর শব্দ আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করছিলো। মধুর আওয়াজ নয়, আশার বাণীও নয়, নয় কোনও মানুষের কথা। অথচ তা কোনও পাখির ভাষাও ছিলো না। আশেপাশে কতোগুলো পোকামাকড় ছিলো। ওগুলোর হাতে বিষ, পায়ে বিষ, বিষ ওগুলোর মুখে; সর্বশরীরে। চারিদিকে ওদের ছুটোছুটির শব্দ অত্যন্ত ভয়ংকর শোনা যাচ্ছিলো। চারিধারে ওরা লম্ফঝম্ফ করে বিষ ছুড়ছিলো। এই জগৎটা যেনো কেবলই ওদের, অন্য কারও বাস করার অধিকার নেই এতে।

সেভ প্যালেস্টাইন

তুমি যুদ্ধগ্রস্ত; আবহ বন্দি
এক টুকরো নির্মল বায়ুর খোঁজে ছুটছো
মৃত্যুর পথে ধাবমান, মরণ তোমার পিছু
নিঃশ্বাসে পাও বারুদ পোড়া
অনিল ভাসায় রক্ত পচা, বিঁধছে বুকে বুলেট।

ঢেউ তুলে হাওয়ায় দুলে কাশবনের মাথায়
আকাশের বুকে এক ছোপ নীল মেখে
তব প্রাণখানি সাদা বক সেজে উড়ে যায়
কে জানে- কোথায়, কার হিয়ায়, কোন অজানায়।

বিশ্বে আজ ঈদের হর্ষ-হাসি
দামি কাপড়, নতুন জামা-জুতো
তোমার দেহে পুরান ছেঁড়া সুতো
ঈদটা তোমার বড়ই কটু বাসি।

২৯ জুলাই, ২০১৪

পূর্বপুরুষ

প্রবল বাতাসের বিপরীতে সদা দন্ডায়মান একটি দেয়াল। নির্বিকার।
ফ্যাকাসে আবরণ তার শরীরে, বয়স অনেক।
কতো নির্ঘুম রাত্রি পার করেছে এই দেয়াল, তার হিসেব ঈশ্বরই লিখে রেখেছেন।
অনেক দীর্ঘ এবং সরু।
শত ঝড়-ঝঞ্জায় অনেক জায়গায় তার আস্তর খসে পড়েছে
তবে একটি স্থানে আঁচড় লাগেনি এক চুলও।
কে জানে, কতো যুগ কেটে গেছে এইভাবে...
এক আলোক বর্ষ হবে তো!
দেয়ালের ঠিক মাঝখানে
মাঝ দেয়ালে একটা কাঠের ফ্রেম লেপ্টে আছে।
কারিগর তার সুনিপুণ হস্তে পরম মমতায়
ফ্রেমটা বসিয়েছে খুব যতনে।