YouTube বন্ধ হয়ে গেলে...

বেশ কিছু দিন যাবৎ বাংলাদেশে ইউটিউব বন্ধ ছিল। কিন্তু তাই বলে আমাদের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় নি। নিজেদের প্রয়োজনের স্বার্থে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে উপায় বের করে নিয়েছি।

তুমি নেই তাই

পরমিতা.. হয়তো বা আজ রাতে.. হয়তো বা তোমায় একটা চিঠি লিখতে পারি। তোমার অবর্তমানে আমার অনুভূতিগুলো সাজাবো তাতে।।

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

অ স মা প্ত চি ঠি

   




ফেরার আগে বহু আগের সেই চিলেকোঠায় একবার ঢুঁ মারতে ভুললাম না। জং ধরায় পুরানো তালাতে চাবি কাজ করছে না। অবশ্য এতো দিনে চাবিতেও মরচে পড়ে গেছে। তালাটা ভাঙতে হলো। ভেতরের ভ্যাপসা বাতাস প্রতিবাদ করে উঠলো। গুমোট গন্ধের ধাক্কায় আমি পেছনে সরে আসতে বাধ্য হলাম- যেনো কয়েক যুগ ধরে ওরা মুক্তির জন্য হাঁসফাঁশ করছিলো বন্দিখানায়। পুরোটা ঘরে মাকড়সার রাজত্বই চোখে পড়ছে। করিমকে বলে ভেতরটা পরিষ্কার করালাম।

কোথায় যেনো কয়েকটা ছবি রেখেছিলাম। ছবিগুলো খুব দরকার ছিলো। ওগুলো পাওয়া গেলো সিন্দুকে। একটা হলুদ খামও পেলাম। প্রেরকের নাম, ঠিকানা কিছুই লেখা নেই। প্রাপকের অংশ পড়ে বুঝতে বাকি রইলোনা, সে একজন মেয়ে। চিঠিটা পড়ার লোভ সামলাতে পারলামন না।

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

নীল অথবা বৃষ্টি-নৃত্য

আমি কিছু পাখি কিনেছি। পাখিগুলোর রঙ নীল। 
যখন আমার অনেকগুলো নীল পাখি হবে, তখন সবগুলো পাখি একদিন আকাশের পানে উড়িয়ে দেবো। 
তুমি তাকিয়ে দেখো- আকাশটা নীল রঙ মেখে সেদিন ভেসে থাকবে। 
তুমি আমায় খুঁজে নিও ঐ আকাশের নীল সমুদ্রে শুভ্র মেঘমালার মাঝে। 
অথবা উড়ন্ত পাখিদের নীল ডানার ভাঁজে।

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

খণ্ডগল্প: রক্তমাখা অশ্রু

https://s3.amazonaws.com/somewherein/assets/images/thumbs/ikhtamin_1392290494_1-ikhtamin_1392025659_1-ikhtamin_1391791542_1-stock-footage--x-blood-drops-landing-in-water-underwater-shot.jpg




রুমেলের ঈদের ছুটি এবার একটু তড়িঘড়ি করেই শেষ হয়ে গেল । শুক্রবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছুল সে। সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে। টিভিতে খবর দেখছে। তিন দিন যাবৎ রূপাকে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। স্কাইপ ফেবু কোনটাতেই নেই। তিন দিন পর আজ হঠাৎ রূপাকে পাওয়া গেল ফেবুতে।
-আমি তোকে অনেক অনেক মিস করেছি :'(
-আমি এই ক'দিন আমার মাঝে ছিলাম নারে...
-কই ছিলি
-হাই
-হ্যালো
-কোন সাড়া নেই
-কোন সাড়া নেই
-কোন সাড়া নেই
অতঃপর কোন সাড়া নেই
অপেক্ষা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। তবুও রুমেল একটার পর একটা মেসেজ-ইমো-হাই-হ্যালো করেই যাচ্ছে... অপেক্ষার সাথে যেন তার বন্ধুত্ব জড়িয়ে গেছে।

-ওই
-জানিস। বাড়ি থেকে আসার সময় আম্মু আমের আচার বানিয়ে দিসে। আমার খুব মনে চায় তোকে দিতে। তুই কি আমাকে তোর আশেপাশের কোনও এ্যাড্রেস দিতে পারবি...? আমি কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিব। তুই কালেক্ট করে নিতে পারবি।

বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৪

টুকে রাখলাম। কোনও এক সময় কাজে দেবে।

প্রিয় বাবুই পাখি,
জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন পরিবেশ-পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে থাকে না। পরিস্থিতিকে সাহসের সঙ্গে জয় করে নিতে চেষ্টা করবে। লজ্জা, শংকা, অস্বস্তি থাকা ভালো। কিন্তু সব সময় তা পুষে রাখলে চলবে না। মারামারি, ধাক্কাধাক্কি খুবই খারাপ। কিন্তু যখন তুমি সবার আগে থাকবে, তখন আর ধাক্কাধাক্কি করা লাগবে না। তোমার পুরানো বন্ধুকে খুব মনে পড়ে? মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলবে। এখন যেই স্কুলে আছো, সেখান থেকে অল্প যে কয়জনকে তোমার পছন্দ হয় তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতো পারো। অবশ্য তোমার কয়েকটা বন্ধু জুটে গেলে দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে। তোমাকে তারা "তুই" করে কথা বলে? ব্যাপার না। তুমি কি জানো? "তুই" শব্দের ভালো একটা অর্থ আছে... আপন বা কাছের কাউকে "তুই" বলেও ডাকা যায়। তোমার স্কুলের ম্যাডামরা ছাত্রদের ভালো চায়। তারা তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চায়। তাই তাঁরা আপন মনে করে শাসন করে। হয়তো তোমার অপরাধ ছিলো না। তোমার কোনও ভুল ছিলো না। তবুও আজ ম্যাডাম তোমাকে মেরেছে। ম্যাডাম তোমাকে ভুল বুঝে মেরেছে। ইচ্ছে করে মারেনি। ম্যাডাম বুঝতে পারেনি যে, তুমি ধাক্কাধাক্কি এড়াতে দেরি করছিলে। এর জন্য তুমি ম্যাডামকে দুষবেনা। ম্যাডামরা খুব ভালো। তাদের মন ভালো। তারা না থাকলে তুমি কার কাছে পড়বে বলো?

বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪

ϙϙϙ নির্জন রাতে ϙϙϙ

        


ঘুমটা হঠাৎ করেই ভেঙ্গে গেলো। অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম এমনটা নয়। কিছুক্ষণ আগেই তো বাতি নিভিয়েছিলাম। যাই হোক, আবার ঘুমাতো চেষ্টা করছি। কিন্তু ঘুম তো আর আসছেনা। তন্দ্রার দল চোরপুলিশ খেলছে যেনো। লেপের ভেতর খুব গরম অনুভব করছি। ওটা পায়ের কাছে ফেলে একটা পাতলা কম্বল টেনে নিলাম।

বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর। শ্রবণ শক্তি হঠাৎ এতো সক্রিয় হয়ে উঠলো কেনো? কোথা থেকে যেনো একটা শব্দ আসছে এইদিকে। খুব কাছে নয়, আবার বেশ দূরেও না। কিছু একটা থেঁতলানোর চাপা শব্দ। একটু পর পর। আওয়াজটা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। কিন্তু এর মূল উৎস কি! তা শত বার ভেবেও বুঝতে পারলাম না। টপ করে এক ফোঁটা পানি পড়ার শব্দ হলো।

হুম.. ওয়াশ রূমের কল থেকে বালতিতে পড়েছে। কিন্তু আমাকে ভয় পাইয়ে দেবার জন্য এক ফোঁটা পানিই বুঝি যথেষ্ট ছিলো! মাথাটা পুরোপুরিই কম্বলের নিচে লুকিয়ে নিলাম। উহ.. এখনতো আরও বেশি গরম লাগছে।